কুড়িগ্রামে বন্যা-ভাঙ্গন আতঙ্কে নদী তীরের মানুষ

|

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর তীরবর্তী মানুষের মাঝে বন্যার পাশাপাশি ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা গেছে। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ ঠিক করা না হলে আসন্ন বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করা এবং শত-শত ঘরবাড়িসহ কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর ৩১৬ কি.মি. দীর্ঘ নদী পথ রয়েছে। এই জেলায় প্রায় সাড়ে চার শতাধিক ছোট-বড় চরাঞ্চল রয়েছে। ৯টি উপজেলায় ৩টি পৌরসভা,৭৩ ইউনিয়নে ২০ লাখের অধিক মানুষের বসবাস। এরমধ্যে ৬০ হতে ৬৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক চরে চার লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। ফলে প্রতিবছর বন্যায় এদের সিংহ ভাগই আক্রান্ত হয়। আর নদ-নদীর ভাঙ্গনে প্রতিবছরই শত-শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। চোখের সামনেই বসত বাড়ি, বাগান ও আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গন যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব এলাকার বাংটুর ঘাট হতে ফুলবাড়ি উপজেলার সাথে সংযোগ সড়কের ২শ মিটার বাঁধের ঢাল ধরলা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।

অপরদিকে চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর স্থায়ী ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাঁচকোল দক্ষিণ খামার এলাকায় পিচিংসহ ৯৫মিটার ব্লক নদীতে ধসে পড়েছে এবং উলিপুর উপজেলার কাজির চরের বাঁধের ৫৫ মি. ঢাল বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও আরও ঝুঁকিতে রয়েছে রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়নের কালোয়ার ৪শ মিটার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংটুর ঘাটে ৩শ মিটার, হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোবে ৪শ মিটার, মোগলবাসা ইউনিয়নের সিতাই ঝাড় ৩শ মিটার, বামন ডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩শ মিটার,মুরিয়া বাজার ২শ মিটার, লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়িতে ১৫০মিটার।

দ্রুত এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সমূহ ঠিক করা না হলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করা ছাড়াও শত-শত ঘরবাড়িসহ ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ খামার পাড় গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার গাদলু চন্দ্র দাস (৪৫) বলেন, ঈদের দিন ভোর বেলা আকস্মিক ভাবে ব্লকে ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে করে একদিনেই ১২টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।

ভাঙ্গনের শিকার কার্তিক চন্দ্র (৫০), মেনেকা (৬৫) জানান, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লকের কাজ করছে। কিন্তু সেই কাজও অনিয়ম করেছে ঠিকাদারসহ কর্তৃপক্ষ। মৌখিক অভিযোগ দিলেও তারা তা আমলে নেয়নি। যার কারণে ব্লকের বাঁধ এক বছরের মাথায় ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে যায়। বাড়ি ভেঙ্গে আজ আমরা খোলা আকাশের নিচে থাকলেও চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন। নদী তীরবর্তী ভাঙন কবলিত পরিবারগুলো বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে।

পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায় যে, নদী তীরবর্তী মানুষের আহাজারি। বাড়ি ভাঙলে কোথায় যাবে এ নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তায়। বেশিরভাগ লোকজন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। গত বন্যায় বাঁধের তিনটি জায়গা ভেঙে যাওয়ায় সেদিক দিয়ে যেভাবে পানি ঢুকছে তাতে বাঁধে আশ্রয় নেয়াও নিরাপদ মনে হচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম চিলমারীর কাঁচকোলে ব্লকের কাজের মানের বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পরেই ব্লক গুলো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে প্রায় ৬শ মিটার ব্লক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। জেলার বাকি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই স্থায়ী ভাবে কাজ করা হবে।









Leave a reply