টেমস নদীতে চলছে ঐতিহ্যবাহী রাজহাঁস গণনা

|

রাজত্ব নেই, কিন্তু রাজকীয় হালচাল আজও বহাল। ব্রিটিশ রাজপরিবারে প্রায় হাজার বছর ধরে চলে আসা রীতি মেনে লন্ডনের টেমস নদীতে চলছে রাজহাঁস গণনা। এ শুমারি কেন্দ্র করে, রীতিমতো উৎসব চলছে লন্ডনে। শহরটিতে ৮০০ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে জমকালো এ আয়োজনের।

রাজকীয় বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে সব রাজহাঁসেরই মালিকানা রানীর। তবে কালের বিবর্তনে রাজপরিবারের মালিকানায় এখন কেবল টেমস নদীতে বিচরণ করা হাঁসগুলো। প্রতি বছরই জাঁকজমক আয়োজনে চলে এসব হাঁসের শুমারি; যা এখন রীতিমতো উৎসবে রূপ নিয়েছে।

চলতি বছর, নদীর ৭৯ মাইল এলাকায় পাঁচ দিন ধরে চলবে এ গণনার কাজ। প্রতি বছরের নিয়মিত এ আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রানী এলিজাবেথের সমস্ত রাজহাঁস দেখভালের দায়িত্বে থাকা ডেভিড বারবার।

ডেভিড বারবার জানান, “রাজহাঁস গণনার এ উৎসব রয়্যাল সোয়ান আপিং হিসেবে পরিচিত। ১২শ’ শতক থেকে এ প্রথা চলে আসছে। রাজহাঁস আকারে বড়, আর গায়ে বেশ শক্তিও আছে। তাই এগুলোকে সামলাতে খানিকটা অভিজ্ঞতাও দরকার।

মধ্যযুগে রাজহাঁস সুস্বাদু খাবার হিসেবেই জনপ্রিয় ছিল বেশি। আর শুমারির লক্ষ্য ছিল, রাজকীয় ভোজে পর্যাপ্ত হাঁসের যোগান নিশ্চিত করা। যদিও, বর্তমানে এসব হাঁস হত্যা করা কিংবা খাওয়া রীতিমতো অপরাধ।

ডেভিড বারবার বলেন, “প্রাচীন আমলে রাজকীয় ভোজে তো বটেই, সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকাতেও থাকতো হাঁসের মাংস। এখন প্রাণি সংরক্ষণের আওতায় সে প্রথা বদলে গেছে। মানুষজনও এ বিষয়ে অনেক সচেতন।”

রাজপরিবারের ছয়টি বৈঠাচালিত কাঠের নৌকা হাঁস গণনার কাজ করছে। নদী থেকে হাঁস তুলে তুলে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, রোগবালাইয়ের সংক্রমণ রোধে চলে ওজন আর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও।

হাঁসগণনা দেখতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে টেমসের তীরে হাজির হন বহু দর্শনার্থী। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১২শ’ হাঁসের দেখা মেলে নদীটিতে।









Leave a reply