খালেদা জিয়া কী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?

|

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রিজন সেলে বসেই খবর রাখছেন রাজনীতির। তবে সহসাই তার রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এমনকি সামনের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতাও তার থাকছে না বলেই মনে করেন আইনজ্ঞরা। যদিও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, সাজা স্থগিত হলেই প্রার্থী হতে পারবেন বিএনপি নেত্রী।

অসুস্থতার কারণে খালেদার আবাস এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের প্রিজন সেল। সেখান থেকেই খোজঁখবর রাখছেন রাজনীতির, দলের।

তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানান, ম্যাডাম একটি কথাই বলেছেন। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য শান্তিপূণর্ভাবে কমর্সূচি পালন করেন। আর আমার জন্য আপনারা আইনগতভাবে এগিয়ে যান। রাজনীতিবিদরা তাদের মতো কাজ করুক।

অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের সাজা দু’বছরের বেশি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে উচ্চ আদালতে সাজা স্থগিত হলে প্রার্থী হওয়া যাবে বলে মনে করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। যদিও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকের ভিন্নমত।

তিনি বলেন, মামলা বিচারধীন থাকা অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন কি পারেন না এটা মনোনয়নপত্র দাখিলের পরে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুরাহা হতে হবে। এটা জটিল আইনি প্রশ্ন। এই প্রশ্ন সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ দেখি। আগামি নির্বাচনের কথা যদি মাথায় নিই তাহলে এখানে তার জন্য উজ্জল ভবিষ্যত আছে বলে মনে করি না।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, কেউ কেউ বলছেন কোর্ট রায়ের আদেশ স্থগিত করলে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আবার কেউ কেউ বলছেন আদালতের একটি আদেশ লাগবে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সাজা যদি স্থগিত করা হয় তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ইউনিয়ন পরিষদের মামলায় যাদের সাজা হয়েছিলো অনেক মামলায় সাজা স্থগিতের পর তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো।

রাজনীতির মাঠ কিংবা আদালত-ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সামনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও আইনী লড়াইয়ের উপর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত অনেকটা নির্ভর করছে বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আশা করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে গেলে, স্বমহিমায় ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।









Leave a reply