বারবার প্রমাণ করেছি, কেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি: আহমেদ আযম খান

|

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেতে দেয়া হয়নি। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। যার কারণে আমরা যাইনি। গত পাঁচ বছরে আমরা পদে পদে প্রমাণ করেছি কেন নির্বাচনে যাইনি। সেই নির্বাচন জনগণের ভোটে হয়নি। আজ সন্ধ্যা ৬টায় যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত টকশো ‘রাজনীতি’তে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। টকশোটি সঞ্চালনা করেন রোকসানা অানজুমান নিকোল।

এসময় আহমেদ আযম আরো বলেন, পুরো জাতি আজ অপেক্ষা করছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য। জাতি মনে করছে, ২০১৪তে তারা ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোটের অধিকার চায়। শাসকদল ছাড়া বাকি রাজনৈতিক দলগুলোও পুরো জাতির সাথে একমত, সংসদ ভেঙে না দিলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ১২৩ এর ৩ (খ)তে যেভাবে বলা আছে, সংবিধানের ভেতর থেকে সংসদ ভেঙে দেয়া সম্ভব। আর সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সরকার প্রধান ও শাসক দলের ইচ্ছার উপর। সংসদ ভেঙে না দিলে সমতা তৈরি হবে না। কোনো ভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।

সংবিধানের ব্যাখ্যা আমরা একেকজন একেকরকম দিতে পারি উল্লেখ করে বিএনপির এইনেতা বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ব্যাখ্যাটা হওয়া দরকার। ১২৩ এর ৩(ক) ও (খ)তে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। প্রধানমন্ত্রী ও শাসক দল চাইলে সেটি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এখন সংসদ ভেঙে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিলেও সেটি সংবিধানের কোনো বিষয় লঙ্ঘিত করবে না। কথা হলো আমরা সেটা চাই কিনা।

আগামীকালের ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতগুলো সমাবেশ করতে পেরেছি বাধার সম্মুখীন হয়েছি। শেষ মুহূর্তে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারপরও পুলিশ বাধা দিয়েছে। আশা করি শাসক দল আগামীকালের সমাবেশে কোনো বাধা দিবে না। পুলিশও কোনো বাধা দিবে না।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিবাচক চিন্তা করেছি জানিয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, যেদিন থেকে সংলাপ শুরু হয়েছে সেদিন থেকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গায়েবি মামলা চলছে।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোল কেন জামিনে মুক্তি দেয়া সম্ভব। প্রত্যকটি মামলা এবং সাজা প্রাপ্ত মামলাগুলোও জামিনযোগ্য। সুতরাং ইচ্ছা করলে এগুলো জামিন দেয়া যায়। যেসমস্ত কোর্ট বারবার জামিন আটকে দিচ্ছে এগুলো সবই নিম্ন আদালত। এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রন আছে সরকারের। সরকার ইচ্ছা করলেই ওনাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে দিতে পারে।

সংবিধান নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার না করে রাষ্ট্রের কথা, জনগণের কথা চিন্তা করে ব্যবহার করতে হবে উল্রেখ করে বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, তাহলেই ১২৩ এর ৩(খ)টাকে ব্যবহার করতে পারবো। রাষ্ট্রের কল্যাণের কথা চিন্তা করলে সংসদ ভেঙে নির্বাচন করা সম্ভব। পৃথিবীর কোথাও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনের বিধান আছে বলে আমার জানা নেই।









Leave a reply